উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার তথা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়, যা তৎকালীন উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাতা স্যার সলিমুল্লাহর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলেও তা মুসলমানদের দাবি আদায়ে কোনোরূপ প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়।এছাড়াও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন মোকাবিলা ও এটিকে স্থিতিশীল করার জন্য মুসলমানরা একটি পৃথক রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফলে ১৯০৬ সালে 'নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে' নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ফলে ওই সম্মেলনেই সর্বভারতীয় 'মুসলিম লীগের জন্ম হয়। সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ মুসলমানদের অধিকার আদায়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন মোকাবিলা, মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন ও তার বাস্তবায়ন, মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক অগ্রগতি সাধনে মুসলিম লীগ সফল কার্যক্রম পরিচালনা করে। সর্বোপরি, মুসলিম লীগের মাধ্যমেই মুসলমানদের স্বার্থ আদায় করে। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব পেরিয়ে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুসলিম লীগের গুরুত্ব অপরিসীম।অতএব বলা যায়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।