জনাব 'ক'-এর সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে। তার কর্মকাণ্ড শুধু কৃষকম্বার্থে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তা আরও বিস্তৃত ছিল- মন্তব্যটি যথার্থ।উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর জন্ম বরিশাল জেলায় যিনি কৃষককুলের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড, কৃষক শ্রমিক-পার্টি গঠন ও জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করেন। এরূপ বর্ণনা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন।বাঙালি কৃষক সম্প্রদায়ের মুক্তির জন্য শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক আজীবন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন, বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৃষক সমাজের উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল। তাই তিনি অবহেলিত কৃষক সমাজের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এই একটি ক্ষেত্রের 'মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান অগ্রনায়ক, বাংলার কৃষককুলের মুক্তির অগ্রদূত, মানবতাবাদী কিংবদন্তি মহাপুরুষ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক তার কর্মকাণ্ডকে শুধু কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি বরং রাজনীতি, শিক্ষাসহ আরও অনেক বিষয়ে তার ভূমিকা ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তিনি তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার ভীতি দূর করেন এবং ১৯১২ সালে মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার ঘটান। ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জনগোষ্ঠীকে ইংরেজি শিক্ষায় দীক্ষিত হওয়ার পথকে সুগম করেন। পূর্ব বাংলার জনগণের শিক্ষার পথকে উন্মুক্ত করতে শিক্ষা পরিকল্পনা পেশ করেন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হোস্টেল নির্মাণ, মুসলিম শিক্ষা তহবিল গঠন, নারী শিক্ষার প্রসারে লেডি ব্রাবোন কলেজ, ইডেন কলেজ প্রতিষ্ঠা তার উল্লেখযোগ্য অবদান। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস তার আরেকটি জনহিতকর কাজ। এছাড়াও বাঙালি জাতির রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় তার অবদান অনস্বীকার্য। লাহোর প্রস্তাব, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, হিন্দু-মুসলিম স্বার্থের সমন্বয়, বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধকরণ প্রভৃতি পদক্ষেপ তাকে ইতিহাসের নায়ক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। বাঙালি জাতির মুক্তির অগ্রদূত শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বেঁচে আছেন তার কর্মের মাধ্যমে।