ব্যক্তিত্ব 'ক' তথা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্য পৃথক প্রদেশ অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট পূর্বঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম মুসলিম রাজনৈতিক নেতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ সৃষ্টিতে ব্যাপক অবদান রাখেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে এক শ্রেণির সামন্ত সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে। তারাই ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাকরি, রাজনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। স্যার সলিমুল্লাহ লক্ষ্য করেন যে, যাবতীয় কলকারখানা ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান রাজধানী কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এবং এর মুনাফা ভোগ করছে হিন্দু মাড়োয়ারিসহ অবাঙালি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। পূর্ব বাংলার মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিতই রয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ শাসননীতির ফলে ভারতীয় মুসলমান সমাজের যখন চরম দুর্দিন তখন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ তাদের ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভূত হন। এ অবস্থায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহ পূর্ববাংলার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ঢাকাকে রাজধানী করে 'পূর্বভঙ্গ' নামে আলাদা প্রদেশ গঠনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে সুপারিশ করেন। তার সুপারিশের যথার্থতা বিবেচনা করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সুবিধা অবলোকন করে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন। এ বঙ্গভঙ্গের ফলে নতুন প্রদেশ সৃষ্টিতে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। উদ্দীপকে তার এ অসামান্য অবদানের কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
তাই বলা যায়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর মুসলমানদের জন্য পৃথক পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।