বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহান অগ্রনায়ক, বাংলার কৃষক কুলের মুক্তির অগ্রদূত, মানবতাবাদী কিংবদন্তি মহাপুরুষ শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক তার কর্মকাণ্ডকে শুধু কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং রাজনীতি, শিক্ষা সহ আরো অনেক বিষয়ে তার ভূমিকা ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তিনি তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার ভীতি দর করেন এবং ১৯১২ সালে মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার ঘটান। ১৯০৬ সালে সর্বভারতীয় আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জনগোষ্ঠীকে ইংরেজি শিক্ষায় দীক্ষিত হওয়ার পথকে সগম করেন। পূর্ব বাংলা জনগণের শিক্ষার পথকে উন্মুক্ত করতে শিক্ষা পরিকল্পনা পেশ করেন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হোস্টেল নির্মাণ, মুসলিম শিক্ষা তহবিল গঠন, নারী শিক্ষার প্রসারে লেডি ব্রাবোন কলেজ, ইডেন কলেজ প্রতিষ্ঠা তার উল্লেখযোগ্য অবদান। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস তার আরেকটি জনহিতকর কাজ। এছাড়াও বাঙালি জাতির রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় তার ঐতিহাসিক অবদান অনস্বীকার্য।লাহোর প্রস্তাব, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, হিন্দু মুসলিম স্বার্থের সমন্বয়, বাঙ্গালীদের ঐক্যবদ্ধকরণ প্রভৃতি পদক্ষেপ তাকে ইতিহাসের নায়ক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।বাঙালি জাতির মুক্তির অগ্রদূত শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক বেঁচে আছেন তার কর্মের মাধ্যমে।