উদ্দীপকের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে আমার পঠিত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মিল রয়েছে। কৃষকদের কল্যাণে তাঁর অবদান অনন্য।১৮৮০ সালে বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সবসময় অকুতোভয় বীর সৈনিকের মতো সর্বশান্ত কৃষক সম্প্রদায়ের মুক্তির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কৃষকদের অধিকার সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠান করেন। এসব অবদানের কারনে তাকে মজলুম জননেতা বলা হয়।উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব হাফিজুর রহমান একজন রাজনৈতিক নেতা। দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। কৃষক, দিনজুর খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তাকে চরমভাবে ব্যথিত করে। তাই তিনি দরিদ্র, অবহেলিত ও নিপীড়িত মজলুম কৃষকদের মুক্তির জন্য অন্যায়, অবিচার জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মজলুম কৃষকদের কল্যাণে আজীবন সংগ্রাম করার কারণে তিনি মজলুম জননেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। জনাব হাফিজুর রহমানের এমন অবদানের সাথে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। কেননা, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় নেতা, যিনি কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি কৃষকদের শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং জমিদার ও মহাজনি প্রথার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫০ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে কৃষক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জমিদারদের অবৈধ ভূমি দখল বাতিলের দাবি তোলেন। ভাসানীর নেতৃত্বে 'তেভাগা আন্দোলন' এবং 'কৃষক-প্রজা আন্দোলন' কৃষকদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি ন্যাপ (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি) গঠন করে কৃষকদের স্বার্থে বিভিন্ন দাবি আদায়ে সংগ্রাম চালান।ভাসানী সবসময়ই গ্রামীণ অর্থনীতিকে উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং কৃষকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। তার নিরলস প্রয়াসে কৃষকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সচেতনতা তৈরি হয়, যা কৃষি সমাজে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।