উদ্দীপকের জনাব আফসার আলী তথা হাজী শরীয়তউল্লাহর আন্দোলন ধর্মীয় হলেও তা সমাজ সংস্কার ও স্থানীয় জমিদার, নীলকর ও ইংরেজ শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। উক্তিটি যথার্থ।
হাজী শরীয়তউল্লাহর ফারায়িজি আন্দোলন মূলত ইসলামের শুদ্ধি সাধনের উদ্দেশ্যে শুরু হলেও এর প্রভাব শুধুমাত্র ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি বাংলার কৃষক ও প্রান্তিক মুসলমান সমাজের শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিল। স্থানীয় জমিদার, ব্রিটিশ নীলকর ও ঔপনিবেশিক শাসকেরা কৃষকদের ওপর নানা ধরনের কর ও নিপীড়ন চাপিয়ে দিয়েছিল। হাজী শরীয়তউল্লাহ মুসলমানদের কুসংস্কার ও বিদআত মুক্ত করে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান, যা সমাজে এক নতুন চেতনার জন্ম দেয়। তাঁর আন্দোলনের ফলে মুসলমান কৃষকরা জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। তিনি ইংরেজ শাসনের আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেন এবং মুসলমানদের নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে উৎসাহিত করেন। বিশেষ করে, ব্রিটিশদের নীলচাষের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের মধ্যে প্রতিরোধের মনোভাব সৃষ্টি হয়। জমিদারদের দমনমূলক ভূমিকার বিরুদ্ধেও তাঁর অনুসারীরা সোচ্চার হন, যা বাংলার কৃষক বিদ্রোহগুলোর পথ প্রশস্ত করে।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, হাজী শরীয়তউল্লাহর আন্দোলন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি বাংলার কৃষক সমাজকে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করেছে এবং পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছে।