শেষের বক্তব্যটি হলো 'তাকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয়।' নওয়াব আবদুল লতিফ সম্পর্কিত- এ বক্তব্যটি যথার্থ।
নওয়াব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সেয়দ আহমদ' বলা হয় কারণ তিনি উনিশ শতকে বাংলার মুসলমানদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন, তা অবিকল সেয়দ আহমদ খানের কর্মধারার সঙ্গে মিল খায়। সেয়দ আহমদ খান যেমন ভারতের মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন, তেমনই নওয়াব আবদুল লতিফ বাংলার মুসলমানদের শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সে সময় বাংলার মুসলমান সমাজ ব্রিটিশ শাসনের ফলে শিক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আবদুল লতিফ মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন এবং ১৮৬৩ সালে 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেন এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করেন। তার প্রচেষ্টার ফলে অনেক মুসলমান উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয় এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পায়। এছাড়া, তিনি মুসলমানদের সামাজিক সংস্কারে গুরুত্ব দেন এবং তাদের রক্ষণশীল মনোভাব পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। তার চিন্তা ও কর্মধারা সেয়দ আহমদ খানের আলিগড় আন্দোলনের সঙ্গে তুলনীয়, কারণ দুজনেই মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
তাই নওয়াব আবদুল লতিফকে যথার্থভাবেই 'বাংলার সেয়দ আহমদ' বলা হয়।