উদ্দীপকে ডাইরিতে লেখা "ঢাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তারই অবদানে প্রতিষ্ঠিত হয়"- উক্তিটির যথার্থ।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিশেষ করে বাংলা অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে ব্যপক ভূমিকা পালন করেন। তিনি বুয়েট, ঢাকা 'বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, সলিমুল্লাহ এতিমখানা ও মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ব্যপক ভূমিকা পালন করেন।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন প্রভাবশালী মুসলিম নেতা, যিনি বাংলার মুসলমানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার অন্যতম বিশাল অবদান ছিল ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর রচনা', যা মূলত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একচেটিয়া প্রভাব কমিয়ে পূর্ববাংলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন এবং ব্রিটিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। এর পাশাপাশি, মুসলিম শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে 'সলিমুল্লাহ মুসলিম হল' প্রতিষ্ঠায় তার উদ্যোগ ছিল অপরিসীম, যা পরবর্তীকালে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চেতনার কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে। শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, সাধারণ ও দরিদ্র মুসলমানদের শিক্ষার জন্যও তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। তার প্রতিষ্ঠিত 'সলিমুল্লাহ এতিমখানা' ছিল এতিম ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে পুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য তিনি 'মিটফোর্ড হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠায় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেন, যা ঢাকার প্রথম আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, প্রকৌশল শিক্ষার বিকাশে তাঁর অবদান 'বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)' প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর এসব অবদান শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা বাংলার মুসলিম সমাজের সার্বিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেয়।