রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ইঙ্গিত রয়েছে তা হলো হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। কেননা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জনগণের কল্যাণে বিশেষ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনেক অবদান রাখার কারণে তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলে অভিহিত হয়, যা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নির্দেশ করে।
সংসদীয় গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও রীতিনীতি, আইনের শাসন, আইনসভার সার্বভৌমত্ব এবং নিয়ম তান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিল অসামান্য শ্রদ্ধাবোধ। তিনি পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলের স্রষ্টা। তিনি বিশ্বাস করতেন শক্তিশালী বিরোধী দল ব্যতীত গণতন্ত্র অর্থহীন। শত প্রলোভন ও নির্যাতনের মুখেও গণতন্ত্রের প্রতি তিনি ছিলেন আপসহীন যোদ্ধা। শহীদ সোহরাওয়ারদী ছিলেন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এজন্য তিনি বলেছিলেন ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করিনা, আমার একমাত্র ভরসা হচ্ছে গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রই আমার জীবনের মূলমন্ত্র। শাসনতন্ত্রের প্রশ্নের জনগণের রায়ই আমার শেষ কথা। উগ্র, হটকারী ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি বিশ্বাস করতেন বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী। তিনি সারা জীবন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়।