মুসলমানদের শিক্ষিত করে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে উক্তিটিতে সমাজ সংস্কারে হাজী শরীয়তউল্লাহর অবদান প্রকাশ পেয়েছে।হাজী শরীয়তউল্লাহ উনিশ শতকের বাংলার একজন সমাজ সংস্কারক, যিনি মুসলমান সমাজের শিক্ষার প্রসার ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফারায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা হিসেবে তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক পুনর্জাগরণের পথিকৃৎ ছিলেন। দীর্ঘ সময় আরব দেশে অবস্থান করে ইসলামি শিক্ষায় গভীর পারদর্শিতা অর্জনের পর তিনি বাংলায় ফিরে আসেন এবং মুসলমান সমাজের আর্থসামাজিক দুরবস্থা লক্ষ্য করেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদারি প্রথার নিপীড়নে মুসলমানরা তখন প্রান্তিক অবস্থায় ছিল।উদ্দীপকে ব্রিটিশদের অধীনতা থেকে মুক্তি লাভের জন্য যুগে যুগে ফরায়েজী আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। এখানে মূলত হাজী শরীয়তউল্লাহর সমাজ সংস্কাররের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। হাজী শরীয়তউল্লাহর নেতৃত্বে ফারায়েজি আন্দোলন শুরু হয়, যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনার পুনর্জাগরণ এবং সমাজের সংস্কারকেন্দ্রিক ছিল। তিনি সমাজের নিচুতলার কৃষকদের জমিদার ও মহাজনদের শোষণ থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি ধর্মীয় একতা ও শুদ্ধাচারকে কেন্দ্র করে সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার প্রসারের উপর জোর দেন। তার প্রচেষ্টার ফলে বাংলার মুসলমানরা তাদের সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হয় এবং কৃষক সমাজ কিছুটা হলেও শোষণমুক্তির স্বাদ পেতে শুরু করে।