ছকে উল্লিখিত 'খ' ব্যক্তিত্বের তথা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা অসামান্য।হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিক ও গণতন্ত্রপ্রেমী নেতা। তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান এবং আজীবন গণতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। আইনের শাসন, স্বাধীন আইনসভা ও শক্তিশালী বিরোধী দলকে তিনি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন।উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ব্যক্তিত্ব হলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যিনি অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে বলেছিলেন, 'বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী'। তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি প্রথম শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন করেন, যা গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বিশ্বাস করতেন, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে যখন অনেক রাজনৈতিক নেতা ভীত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান, তখন সোহরাওয়ার্দী ছিলেন সোচ্চার ও সংগ্রামী। তিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ১৯৬২ সালে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় National Democratic Front (NDF), যা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। তিনি সব সময় বিশ্বাস করতেন জনগণের রায়ই চূড়ান্ত, এবং জনগণের কল্যাণই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিকে তিনি ঘৃণা করতেন এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিকেই গ্রহণ করেছিলেন।সুতরাং, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার আপসহীন সংগ্রাম ও আদর্শিক অবস্থানই তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্ররূপে চিহ্নিত করেছে।