উদ্দীপকে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর কথা বলা হয়েছে।নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ব্রিটিশ ভারতের একজন খ্যাতনামা মুসলিম নেতা এবং ঢাকার চতুর্থ নবাব ছিলেন। তিনি ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নবাব খাজা আহসানউল্লাহর পুত্র ও নবাব নবাব খাজা আবদুল গনির পৌত্র। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে নেতৃত্বগুণে তিনি মুসলিম সমাজে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন।উদ্দীপকে উল্লেখ্য যে, একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে। একটি রাজনৈতিক দলে তার অনেক অবদান রয়েছে। তিনি বুঝতে পারেন যে, একটি জাতি শিক্ষাদীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞান না শিখলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে বিশেষ অবদান রাখেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের সাথে নবার স্যার সলিমুল্লাহর সাদৃশ্য রয়েছে। যিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, শিক্ষা-দীক্ষা ও রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে সচেতন করে তুলতে না পারলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি ১৯০৬ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব দেন এবং বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে মুসলিম স্বার্থ রক্ষায় নেতৃত্ব দেন। প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইম্পেরিয়াল কাউন্সিল "ও ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং কারুশিল্প উন্নয়নে কাজ করেন। ব্রিটিশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে। সৎ, সাহসী ও ধার্মিক এই নেতা মুসলিম জাতির জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যা ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। এই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক ব্যক্তিত্বের জীবনের অবসান ঘটে ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায়।