উদ্দীপকের দ্বিতীয় ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবদান অসমান্য।ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যারা কার্যকর নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ অন্যতম। তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকার সম্ভ্রান্ত নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মুসলিম সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক পশ্চাৎপদতার প্রেক্ষিতে তিনি রাজনৈতিক জাগরণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দূরদর্শী চিন্তা, সাহসী ভূমিকা ও সংগঠন গঠনের ক্ষমতা মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।উদ্দীপকে বর্ণিত 'নবাব পরিবারে জন্ম নেওয়া' দ্বিতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, যিনি বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক অগ্রগতির পথিকৃত ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা ও সমাজব্যবস্থায় পিছিয়ে ছিল। এই বাস্তবতায় তিনি বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করেন, যাতে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ে। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠিত হলে 'তিনি ঢাকাকে তার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন, যার ফলে মুসলমানদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটে। তিনি মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন গঠনের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয় তারই প্রস্তাবনায়, যা মুসলমানদের সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়। এছাড়া তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচকমণ্ডলীর দাবিতে সক্রিয় ছিলেন, যার ফলে মুসলমানরা আইনসভায়, উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজে আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক চেতনার জাগরণ ঘটান।আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান শুধু তার সময়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মুসলমানদের রাজনৈতিক ঐক্য ও দাবি আদায়ের পথ তৈরির মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।