উদ্দীপকে বর্ণিত নেতা তথা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অবদান অবিস্মরণীয়।হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বাংলা ও পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী নেতা। তার অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির জন্য তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়। তিনি কঠোর সংগ্রামী ছিলেন এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। উদ্দীপকের সিরাজুল হকের মাঝে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর প্রতিচ্ছবি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ছিলেন আপদমস্তক একজন গণতন্ত্রমনা রাজনীতিবীদ। মুসলিম লীগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তার রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে। ১৯৩১ সালে 'নিখিল ভারত মুসলিম যুব সংস্থা' গঠন করেন এবং ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেন। অবিভক্ত বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে তিনি বঙ্গভঙ্গের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন ও এক স্বাধীন সম্মিলিত বঙ্গগঠনের পক্ষে ছিলেন। ১৯৪৯ সালে তিনি 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' গঠন করেন, যা পরে 'আওয়ামী লীগ' নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে মুসলিম লীগের ক্ষমতা কমিয়ে দেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি সবসময় বিরোধী দল গঠনের গুরুত্ব ব্যক্ত করতেন এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৬২ সালে তিনি National Democratic Front গঠনে অংশগ্রহণ করেন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যান। তার বিশ্বাস ছিল, 'বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী' এবং জনগণের রায় সর্বোচ্চ।সুতরাং, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন দূরদর্শী, সংগ্রামী এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক। তার অবদান বাংলা ও পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আজও স্মরণীয় এবং তিনি ছিলেন নববাংলার আদর্শ স্রষ্টা।