উদ্দীপক বর্ণিত আজমল সাহেবের প্রস্তাবের সাথে আমি যে ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য মিল খুঁজে পাই তা হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব।উল্লেখ্য যে, আজমল সাহেব একজন খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ। তিনি তার সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারনের জন্য নিজ দলের অধিবেশনে একাধিক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন। উক্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে একাধিক রাষ্ট্র গঠিত হয়। অর্থাৎ উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের সরাসরি সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কংগ্রেসের একচেটিয়া শাসনের প্রেক্ষিতে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তখন প্রবলভাবে অনুভূত হয়। এমন প্রেক্ষাপটেই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল এমন একটি ঘোষণা, যার মাধ্যমে মুসলিম লীগ ভারতবর্ষে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি তোলে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ভিত্তিতে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রস্তাব শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উত্থাপন করেন, তা ছিল মুসলিম জাতিসত্তার স্বীকৃতি আদায়ের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। লাহোর প্রস্তাবে শুধু 'পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ধারণাই নয়, বরং ওই রাষ্ট্রসমূহের স্বায়ত্তশাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং শাসনতান্ত্রিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবের মাধ্যমেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়, যা পরবর্তীকালে উপমহাদেশ বিভাজনের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।