কৃষিকাজে অবদান ছাড়াও শেরে বাংলা রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রেও অনেক, জনহিতকর কাজ করেছেন। শেরে বাংলা ১৯১১ সালে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯১৩ সালে সর্বভারতীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এভাবেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়,শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনৈতিক বটবৃক্ষ, তিনি ১৯৩০-৩২ সালে তিনটি গোলটেবিল বৈঠকে অসাম্প্রদারি মন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন এবং জোরালো বক্তব্য পেশ করেন।১৯১৬ সালে হিন্দু মুসলমানের স্বার্থ রক্ষায় 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, ১৯১৯ সালে মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিত- বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপত্বিত্ব করেন, ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন,এছাড়াও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন,
একইসাথে তিনি শিক্ষাবিস্তারেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় শিক্ষা সম্মেলনের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক, এ সম্মেলনে তিনি আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পাশ্চাত্য শিক্ষার উপর জোর দেন। ১৯১৩ সালে তিনি একটি গণমুখী শিক্ষা পরিকল্পনা পেশ করেন, শেরে বাংলার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় কলিকাতায় টেইলর, কারমাইকেল ও বেকার হোসেন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৪ সালে তিনি কলিকাতার 'ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং 'মুসলিম শিক্ষা তহবিল' গঠন করেন, তিনি মহিলাদের জন্য কলকাতায় 'লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ এবং ঢাকায় 'ইডেন কলেজ' স্থাপন করেন, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হককে বলা হয় 'ডাল-ভাতের 'রাজনীতির' প্রবক্তা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত।