'উদ্দীপকের জনাব শাহীন সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেই উক্ত নেতা তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পথেই হাঁটছেন।'- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের ছাত্রনেতা শাহীনের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর প্রধান শত্রুতে পরিণত হন এবং বহুদিন জেলে আটক থাকেন। তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণের পেছনে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। পূৰ পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবির পটভূমিকায় বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত হয় দফা দাবিতে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এবং বাঙালি নিজেদের অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে।
তিনি বাঙালিকে ভালোবাসতেন বলে সকল বাধা, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে ও লক্ষ্যে অবিচল থেকে বাংলার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন। ৬ দফাকে নস্যাৎ করার জন্য পাকিস্তান সরকার ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা দায়ের করে। এর প্রতিবাদে জনসাধারণের তাঁর প্রতিবাদ রূপ নেয় ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানে। ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী টালবাহানা শুরু করে, য বাঙালিদের ক্ষোভে উত্তাল করে তুলে এবং বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন । এরই প্রেক্ষিতে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন এবং সেখানে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর এ ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তোলে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে পাক-হানাদারদের নিকট বন্দি হওয়ার পূর্বেই তিনি স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণায় সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, জনাব শাহীন সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ভূমিকা রেখেই উক্ত নেতা তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পথেই হেঁটেছেনৃ।