উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে আমার পঠিত যে রাজনীতিবিদের মিল রয়েছে তিনি হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।উদ্দীপকে 'বাংলার বাঘ' নামে খ্যাত অবিসংবাদিত নেতা সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের শোষণ থেকে বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন। উদ্দীপকের এ নেতার সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের স্পষ্ট মিল রয়েছে। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন অসাধারণ মেধাবী, মানবতাবাদী ও আপসহীন নেতা। তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন, শুরু করলেও বাংলার সাধারণ জনগণের দুঃখ-কষ্ট দেখে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বাংলার ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি আইন ব্যবসায় সাফল্য অর্জনের পরও সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখেই রাজনীতিতে যোগ দেন। বাংলার কৃষকদের শোষণমুক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে 'কৃষক-প্রজা পার্টিতে রূপ নেয়। ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন- কৃষিঋণ সহজলভ্য করা, মহাজনি শোষণ কমানো ইত্যাদি। উদ্দীপকে উল্লেখ্য রাজনীতিবিদ যেমন কৃষকের জন্য দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি, ফজলুল হকও ছিলেন কৃষকের নেতা। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনীতিবিদের সঙ্গে শেরে বাংলার রাজনৈতিক জীবন ও উদ্দেশ্যের একটি সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।