ভারতবর্ষে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে উদ্দীপকের 'খ'-এ ইঙ্গিতকৃত নেতৃত্বের তথা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অবদান ছিল অপরিসীম।উদ্দীপকের ঘটনায় জনাব 'খ' হলেন কংগ্রেস নেতা; স্বরাজ দল গঠনকারী; বেঙ্গল প্যাক্টের উদ্যোক্তা- এরূপ তথ্যগুলো দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে উপস্থাপন করে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা, যিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের শক্তিশালী প্রবক্তা ছিলেন এবং ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বেঙ্গল প্যাক্টের মাধ্যমে তিনি উভয় সম্প্রদায়ের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন দাস বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এই চুক্তিতে মোট সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে সংখ্যানুপাতিক ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চিত্তরঞ্জন দাস বুঝতে পেরেছিলেন যে, মুসলমান সম্প্রদায়ের অধিকার উপেক্ষা করলে স্বরাজ আন্দোলন ব্যাহত হবে। তিনি অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস দূর করার জন্য সব রকম সহযোগিতা এবং সমঝোতার পথ অনুসরণ করেন। বেঙ্গল প্যাক্ট হিন্দু-মুসলিম ফেডারেশনের সাংবিধানিক দলিল হিসেবে স্বীকৃত হয় এবং দেশের স্বরাজ অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত অংশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রদত্ত হয়। তার উদার মনোভাব ও ন্যায়পরায়ণ নীতি সমাজে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে। যদিও হিন্দু মহাসভার বিরোধিতার কারণে চুক্তি সম্পূর্ণ সফল হয়নি, তবুও তার প্রয়াস ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।আলোচনার শেষে বলা যায়, চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্ব ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করলেও, সাম্প্রদায়িক বিরোধের কারণে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তার প্রচেষ্টা জাতির নৈতিক ও রাজনৈতিক শিক্ষা হিসেবে প্রাসঙ্গিক।