উদ্দীপক 'ক'-তে উল্লিখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন কৃষককুলের বন্ধু, সমাজসংস্কারক এবং একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষানুরাগী। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব যখন শিক্ষার আলো প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এ লক্ষ্যে তিনি শিক্ষাবিস্তারে নিরলস ভূমিকা পালন করেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শের-ই-বাংলা হিসেবে পরিচিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কৃষক-প্রজাদের মুক্তির জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্যও তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। এমন বর্ণনায় শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান চিত্রিত হয়েছে। কৃষক দরদি নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক শিক্ষাক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষার দুয়ার খুলে দেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সরাসরি শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে চাখার কলেজ, হরগঙ্গা কলেজ ও আদিনা ফজলুল হক কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান। মুসলিম নারীদের শিক্ষায় সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লেডি ব্রাবোন কলেজ ও ইডেন গার্লস কলেজ। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর জন্য হোস্টেল নির্মাণ এবং তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকে দৃঢ় করতেই তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার অবদান বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।