উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক স্থানের নেতা অর্থাৎ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
উদ্দীপকে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের গণমানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষাবিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক বুঝতে পেরেছিলেন যে, আধুনিক শিক্ষা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি না করতে পারলে বাংলার জনগণের উন্নতি সম্ভব হবে না। তাই তিনি ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় শিক্ষা সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। এ সম্মেলনে তিনি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পাশ্চাত্য শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলার জনগণের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক অনবদ্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯১২ সালে তিনি কলকাতায় 'মুসলিম শিক্ষা সমিতি' গঠন করেন। গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য তিনি অর্থ সাহায্য করতেন । অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা দপ্তরের কার্যাবলি নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করেন। তিনি 'মুসলিম এডুকেশন ফান্ড এবং কলকাতায় 'ইসলামিয়া কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতায় 'লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ, ১৯৪০ সালে বরিশালের চাখারে 'ফজলুল হক কলেজ, ' ঢাকায় 'ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল' প্রভৃতিও তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার অবদান অনস্বীকার্য ।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।