উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব সিরাজুল ইসলামের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ব্যক্তিত্ব হাজী শরীয়তউল্লাহর মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব সিরাজুল ইসলাম একজন নামাজি, সৎ, ধর্মপ্রাণ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি নিজ ধর্মচর্চার পাশাপাশি সমাজের মানুষকে কুসংস্কারমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়ন এবং প্রত্যেক মুসলমানকে ধর্ম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করে ধর্ম পালনে আহ্বান জানান। এ থেকে বোঝা যায়, জনাব নূরুল হকের কর্মকাণ্ডের সাথে হাজী শরীয়তউল্লাহর মিল রয়েছে। হাজী শরীয়তউল্লাহ ছিলেন একাধারে একজন ধর্মীয় নেতা, সমাজ সংস্কারক, রাজনৈতিক নেতা এবং সর্বোপরি ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
হাজী শরীয়তউল্লাহ ছিলেন ধর্মীয় ও সমাজ সংস্কারক এবং ভারতবর্ষে সংঘটিত ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর মক্কায় অবস্থান করে ইসলাম শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি আরবের ওয়াহাবি আন্দোলনের আদলে ফরায়েজি আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি মুসলমান সমাজ থেকে জাত-পাত প্রথা উচ্ছেদ, অভিজাত-অনভিজাত শ্রেণির বিলোপ ঘটিয়ে পীর পূজা, কবর পূজা প্রভৃতি কুসংস্কার দূর করার জোর চেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ধর্মের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অধিকার সচেতন করে তোলা দরকার। এ উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশি শাসন-শোষণ এবং নীলকর, জমিদার, জোতদার, মহাজনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। যার ফলে তাকে শাসকশ্রেণির রোষানলে পড়তে হয়।