উদ্দীপকের শেষাংশে বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে। এ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা।
১৯৯১ সালের ২ জুলাই তৎকালীন আইনমন্ত্রী মীর্জা গোলাম হাফিজ সংবিধান সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট ৩০৭-০ ভোটে উক্ত বিল সংসদ কর্তৃক গৃহীত হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি এ বিলের ওপর গণভোট আয়োজন করলে ৮৪.৩৮% ভোট বিলের পক্ষে পড়ে। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি বিলটি অনুমোদন করেন।
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে বেশকিছু বিষয় গৃহীত হয়। জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংক্ষিপ্তকরণ, রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন, উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ- প্রধানমন্ত্রী পদ বিলোপ ইত্যাদি ছিল দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু। এ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভাকে প্রভূত ক্ষমতা প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। আইন বিভাগের নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং উপরের আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায়, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা।