উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান।সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংবলিত সর্বোচ্চ দলিল। এর মাধ্যমেই জনগণের দাবি পূরণ, রাষ্ট্রের উন্নয়ন তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কার্য সম্পাদিত হয়। তাই সংবিধান এমন হওয়া প্রয়োজন যাতে জনগণের স্বার্থ রক্ষা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিই পরিলক্ষিত হয়।বাংলাদেশের সংবিধানে গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি করা হয়েছে। এতে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে। এ সংবিধানে প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ অর্থাৎ বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শোষণমুক্ত, ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় বাংলাদেশের সংবিধান থেকে। এছাড়া এ সংবিধানে সাম্প্রদায়িকতা পরিহার তথা সকল প্রকার ধর্মীয় বৈষম্য বিলোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত উন্নতি সাধনের কথা বলা হয়েছে। এতে জনগণের সব ধরনের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।বাংলাদেশের সংবিধানে গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে যা রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের জনগণের সার্বিক স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধান একটি শ্রেষ্ঠ সংবিধান।