আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান রচনার দিক দিয়ে উদ্দীপকের নীতিমালা এবং বাংলাদেশ সংবিধানের পদ্ধতিগত মিল রয়েছে।১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি পরিচালনার মূল দলিল হিসেবে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তিনি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। সেই আদেশ অনুযায়ী পরবর্তীতে গণপরিষদ আদেশ জারি ও সংবিধান কমিটি গঠন করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব উপযোগী সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এ সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছিল। উদ্দীপকের নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ ধরনের কর্মতৎপরতা পরিলক্ষিত হয়।উদ্দীপকে দেখা যায়, সংগঠনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে জনাব রশিদ সংগঠনটি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন। এটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সদস্যদের সাথে আলোচনা, অন্যান্য সংগঠনের নীতিমালা পর্যালোচনা প্রভৃতি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। একই পদ্ধতি বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বাংলাদেশের জন্য স্থায়ী সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি 'গণপরিষদ আদেশ জারি' করেন। এ আদেশবলে গণপরিষদ প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। তারা বিভিন্ন আগ্রহী ব্যক্তি, সংগঠনের কাছ থেকে নানা ধরনের মতামত, প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কতিপয় সদস্য যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ সফর করে তাদের সংবিধান পর্যালোচনা করে। এভাবে নানা কর্মতৎপরতার পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে তারা একটি খসড়া সংবিধান বিল উত্থাপন করেন। এটি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পাঠ শেষে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দেশের পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে এটি এ পর্যন্ত ১৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নীতিমালা প্রণয়নের মধ্যে বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নের সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে।