প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃক সম্ভব হবে। এই ধারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিতি নিশ্চিত করে। এটি জনগণের সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতার উৎস হিসেবে তাদের অবস্থানকে তুলে ধরে। সংবিধানের এই বিধান নাগরিক অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি জনগণের সম্মতি ও অংশগ্রহণ।গণতন্ত্রের মূলনীতি অনুসারে, জনগণের ভোটাধিকারই রাষ্ট্রের শাসক ও প্রশাসক নির্ধারণের প্রধান মাধ্যম। সংবিধান এই ধারণাকে বৈধতা প্রদান করে এবং নিশ্চিত করে যে, সরকার ও প্রশাসনের সকল কার্যক্রম জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হবে। তবে এই ক্ষমতার কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সাংবিধানিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক পরিচালনার ওপর। যদি এই কাঠামো দুর্বল হয় বা জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত হয়, তবে ক্ষমতার মালিকানা নামমাত্র হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই অনুচ্ছেদ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। এটি আইনের শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অবাধ নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌলিক নীতিগুলো কার্যকর থাকলে সংবিধানের এই ধারাটি কেবল একটি আদর্শ নয়, বাস্তবিক অর্থে জনগণের ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটায়।সুতরাং বলা যায়, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। আলোচনার শেষে এর যথার্থতা প্রতীয়মান হয়।