উক্ত সংশোধনী অর্থাৎ চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়- বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন বা উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি গণতন্ত্রের জন্য অভিঘাত নয়। কেননা, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায়ও গণতন্ত্র বহাল তবিয়াতে আছে যার উদাহরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স।
কিন্তু নির্বাচন ছাড়াই জাতীয় সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি সম্পূর্ণ গণতন্ত্র পরিপন্থি। গণতন্ত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ পরোক্ষভাবে শাসন কাজে অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচন থাকে বিধায়ই সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। অথচ ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কার্যকাল ও জাতীয় সংসদের মেয়াদ নির্বাচন ছাড়াই পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়, যা শুধু গণতন্ত্রকে ধ্বংসই করে নাই পক্ষান্তরে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের আসনকে পাকাপোক্ত করেছে।
একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর কালো অধ্যায়। গণতন্ত্রের প্রাণ বিরোধী দল। বিরোধী দলকে ছায়া সরকারও বলা হয়। সরকারের সমস্ত কার্যাবলির প্রতি রাজনৈতিক দলসমূহ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখে এবং সরকারের সমালোচনার মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটায়। সর্বোপরি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে তাদের সম্পৃক্ততা বেড়ে যায়। অথচ সম্পূর্ণভাবে জনগণকে তুচ্ছ ভেবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ কবর দিয়ে ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
৪র্থ সংশোধনী নিয়ে ভবিষ্যতে যদি এমন গবেষণা বেরিয়ে আসে যে, 'এটি ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কালা কানুন তাহলে পুরা বিশ্বের বিদগ্ধ মানুষ অবাক হবে না- একথা জোর দিয়ে বলা যায়।