'গ' রাষ্ট্রের সংবিধান অপেক্ষা বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম-উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।সংবিধান হলো রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি সংবলিত সর্বোচ্চ দলিল। এর মাধ্যমেই জনগণের দাবি পূরণ, রাষ্ট্রের উন্নয়ন তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কার্য সম্পদিত হয়। তাই একটি উত্তম সংবিধান যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। আর উত্তম সংবিধান বলতে সুস্পষ্ট ও লিখিত, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা বৈশিষ্ট্য সংবলিত সংবিধানকে বোঝায়।বাংলাদেশ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে, যা উত্তম সংবিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। মৌলিক অধিকার ছাড়া নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশ সম্ভব হয় না। কিন্তু উদ্দীপকের 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধানে মৌলিক অধিকারে কোনো বিধান নেই। আবার বাংলাদেশ সংবিধানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এখানে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বিচার কাজ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে করতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈশিষ্ট্যটিও 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধানে অনুপস্থিত। উত্তম সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে ধর্মহীনতাকে বোঝায় না। এখানে সকল ধর্মের সমান মর্যাদা প্রদান করা হয়। কোনো বিশেষ ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি লক্ষ করা যায়, যা 'গ' নামক রাষ্ট্রে নেই। বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের। আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে, যার কারণে এখানে কোনো প্রকার মতানৈক্য দেখা যায় না। কিন্তু উদ্দীপকের 'গ' রাষ্ট্রে দেখা যায়, তাদের দেশের সংবিধান জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ।সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটি বলা যায় যে, 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধানের চেয়ে বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম।