জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সংবিধানের গুরুত্ব অপরিসীম।
জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংবিধানের চারটি মূলনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। চারটি মূলনীতির মধ্যে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র রয়েছে যার মাধ্যমে সংবিধানটি জনগণমুখী কীনা তা নির্ধারিত হয়। গণতন্ত্র মাত্রই জনগণের শাসন। আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতির স্বরূপ বিধান করা হয়ে থাকে। এ গণতন্ত্র দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। তানুসারে শ্রেণী শাসন মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সকলের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত বিধান করতে বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র অবলম্বন করা হয়। সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, জনগণের সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস। ফলের সংবিধানিকভাবেই জনগণ কার্যকরী ক্ষমতার উৎস হয়ে ওঠে।
সংবিধানের জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি অধ্যায় রাখা হয়েছে। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বাক স্বাধীনতা, সাম্প্রতিক ক্রয়ের স্বাধীনতা, সাম্যের স্বাধীনতা, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার, ধর্মীয় অধিকার প্রভৃতি মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষিত হয়। মৌলিক অধিকারগুলো কোন কারনে লঙ্ঘিত হলে ভিকটিম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত মৌলিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আশ্রয় নিয়ে সুবিচার লাভ করতে পারে। এ আইন কোন অর্থে পরিবর্তনযোগ্য নয়। তাই বলা যায়, নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য যেসব অপরিহার্য শর্তাবলী সেসবই সার্বভৌম সংবিধানে পাওয়া যায়।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় সংবিধানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।