বাংলাদেশের সংবিধানটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উপযোগী- বক্তব্যটি যথার্থ।সুশাসন বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মানবাধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা থাকে। এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে লিখিত রূপ, দুষ্পরিবর্তনীয়তা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি নাগরিকের কিছু সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ রয়েছে। আসলে বাংলাদেশের সংবিধানটি সুশাসনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এটি একটি লিখিত দলিল হওয়ায় রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ, কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। দুষ্পরিবর্তনীয়তা সংবিধানকে স্থিতিশীল করে তোলে এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রোধ করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীনতা বজায় থাকে, যা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সংবিধানে মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, সমান সুযোগ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নাগরিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শাসকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসনের নীতিকে আরও সুদৃঢ় করে। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে নাগরিক ও কর্মচারীদের প্রতি জনগণের সেবা করার নির্দেশনা, শাসনব্যবস্থায় নৈতিকতার চর্চাকে উৎসাহিত করে।সুতরাং, বাংলাদেশের সংবিধানটি কাঠামোগতভাবে সুশাসনের মৌলিক উপাদানসমূহ নিশ্চিত করায় এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথার্থভাবেই উপযোগী।