জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ একটি সাংবিধানিক সার্বভৌম রাষ্ট্র। সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের বিষয়টি সংবিধানের মাধ্যমেই স্বীকৃতি পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল আইন এমনকি সংসদও সংবিধানের অধীন।যেসব দেশের সংবিধান সাধারণত লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হয়,সেসব দেশেই সাধারণত সাংবিধানিক প্রাধান্য বা সার্বভৌমত্ব বিস্তার করে। সাংবিধানিক সার্বভৌমত্ব বলতে বুঝি এমন একটি অবস্থা,যেখানে রাষ্ট্রের কোনো আইন বা শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলে কার্যকর হতে পারেনা। তাছাড়া আমাদের সংবিধানের ৭নং অনুচ্ছেদে লেখা আছে, “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং এটি সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত”
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ 'মৌলিক অধিকার' অনুসারে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক বাংলাদেশী স্বতঃসিদ্ধভাবে কতিপয় মৌলিক অধিকারের মালিক। একজন মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন এসব মৌলিক অধিকার। আর যেহেতু একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন,সেহেতু সংবিধানই মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে থাকে। এছাড়া রাষ্ট্রপ্রধান সংবিধানের মাধ্যমেই মৌলিক অধিকারগুলো প্রণয়ন করে থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো হলো- আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য করা যাবে না, নারী পুরুষের সমঅধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার ইত্যাদি। এসব অধিকারের প্রয়োগও সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে।