উদ্দীপকে বাংলাদেশের সংবিধানের কথা বলা হয়েছে।
কেননা বাংলাদেশ প্রায় দুইশ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। এরপর প্রায় ২৪ বছর পাকিস্তান কর্তৃক শোষিত বঞ্চিত হওয়ার এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং প্রায় এক বছরের মধ্যেই উল্লিখিত মূলনীতি গ্রহণ করে নিজেদের সংবিধান রচনা করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত এবং সংক্ষিপ্ত। এ সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ, ১টি প্রস্তাবনা ও ৭টি তফসিল রয়েছে। এ সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। এখানে বলা হয়েছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করবে। এ সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ৮ নং অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। সংবিধানের কোনো ধারা বা অংশবিশেষ পরিবর্তন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই- তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ধারার সাথে দেশের প্রচলিত কোনো আইনের সংঘাত সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে সংবিধান প্রাধান্য পাবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' দেশটি স্বাধীনতা লাভের প্রায় এক বছরের মধ্যেই জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে জাতীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান রচনা করে। যা বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে ।