উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধান তথা বাংলাদেশ সংবিধানের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মূল দলিল হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের এ সংবিধানটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে মহিমান্বিত। বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত এবং সংক্ষিপ্ত। এ সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ, ১টি প্রস্তাবনা ও ৭টি তফসিল রয়েছে। এ সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। এখানে বলা হয়েছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। সংবিধানের কোনো ধারা বা অংশবিশেষ পরিবর্তন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই- তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৭ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কারণ সংবিধানের ধারার সাথে দেশের প্রচলিত কোনো আইনের সংঘাত সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে সংবিধান প্রাধান্য পাৰে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ৮ নং অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, উপরে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও বাংলাদেশ সংবিধানের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।