উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নে বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বসবে।
২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতিতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সমাজতন্ত্র-এর পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা- এর পরিবর্তে 'সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' স্থাপন করা নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা পুনরায় সংবিধান প্রণয়নকালীন সময়ের মূলনীতিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা পঁয়তাল্লিশের পরিবর্তে পঞ্চাশ করা হয়।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের মূলনীতি পুনর্বহাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তকরণ, নারীদের জন্য সংসদে ৫০টি সংসদীয় আসন সংরক্ষণ প্রভৃতি বিষয় রয়েছে। এখানে বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বেশির ভাগ ধারা ফিরে আসে এবং সংবিধানে আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। সংবিধানের ৬৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (ক) (৩) দফার সংশোধন করে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা পঁয়তাল্লিশের পরিবর্তে পঞ্চাশ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নে বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হবে।