বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের সার্বভৌমত্বের দিক থেকে 'ক' দেশের সংবিধান অপেক্ষা অধিক গণতান্ত্রিক।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস'। বাংলাদেশ সংবিধানের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জনগণ প্রত্যক্ষভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনা করবে। অর্থাৎ এ সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের ক্ষমতায়ন স্বীকারের পাশাপাশি মৌলিক অধিকারকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। আইন ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। সর্বক্ষেত্রে জনগণের ক্ষমতায়ন হলেও দেশ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আইনের দ্বারা প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও অন্যভাবে বিধিব্যবস্থা করার অধিকার থাকবে। জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে দেশের সর্বত্র অবাধে চলাফেরা, এর যেকোনো স্থানে বসবাস, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার, শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার সকলের থাকবে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ সংবিধানে জনগণকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যা একটি গণতান্ত্রিক সংবিধানের বৈশিষ্ট্য।