যজনগণের অধিকার রক্ষায় উক্ত সংবিধানের তথা ১৯৭২ সালের সংবিধানের কার্যকারিতা অপরিসীম।একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখাই নির্ধারণ করে না, বরং জনগণের অধিকার রক্ষার মৌলিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এটি জনগণকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিকার পাওয়ার সাংবিধানিক সুযোগও দেয়। এটি নাগরিকদের আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, বিনা কারণে গ্রেফতার ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা, ধর্মপালনের স্বাধীনতা, চলাফেরা ও পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার এবং সম্পত্তির অধিকার প্রদান করে। প্রতিটি অধিকার রাষ্ট্রের আইন দ্বারা সংরক্ষিত এবং কোনো রকম লঙ্ঘন ঘটলে নাগরিকরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে প্রতিকার চাইতে পারে। এতে করে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয় এবং জনগণ সচেতন ও সুরক্ষিত থাকে। সংবিধান নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষা, সভা-সমাবেশ ও সংগঠন গঠনের অধিকারও নিশ্চিত করেছে, যা একটি স্বাধীন ও মানবিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এসব অধিকার রক্ষার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকায় সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামে সজাগ থাকতে পারে।সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর, সুসংগঠিত ও ন্যায়ভিত্তিক দলিল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এটি একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।