উদ্দীপকের প্রশ্ন চিহ্নিত স্থানে সংবিধান হবে নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য লিখিত ও অলিখিত বিধি-বিধানের সমষ্টি। একটি রাষ্ট্রের সংবিধানে শাসকের ক্ষমতা, সিগন্তের অধিকার ও কর্তব্য এবং উভয়ের সম্পর্কের প্রকৃতি সুস্পষ্টরূপে লেখা থাকে |
উদ্দীপকে দেওয়া আছে লিখিত, জাতীয়তাবাদ ,গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ,ধর্মনিরপেক্ষতা যেগুলো মূলত বাংলাদেশ সংবিধানের প্রকৃত ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য:
১. লিখিত সংবিধান : বাংলাদেশ সংবিধান লিখিত। ১৫৩টি অনুচ্ছেদবিশিষ্ট ৮২ পৃষ্ঠার এ সংবিধান ১১টি ভাগে বিভক্ত এবং এর একটি প্রস্তাবনাসহ ৪টি তফসিল ছিল।
২. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান : বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। সাধারণত সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাস করানো যায়।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে' রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ৪ জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই মূলনীতিগুলে আদালত কর্তৃক বলবৎ যোশা না হলেও এবং এগুলো আইনের মর্যাদা ভোগ না করলেও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় এসব ও প্রভাবান্বিত হবেন।
৪ মৌলিক অধিকার : মৌলিক অনিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সুতরাং সংবিধানে মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ করায় এগুলোর গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়। জীবনধারণের অধিকার সর্বোচ্চ আইন। সুতরাং সংবিধানে মৌধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ধর্ম চর্চার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি মৌলিক অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত হয়।
৫. এককেন্দ্রিক শাসন: সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কে সরকারই সব ক্ষমতার অধিকারী। কেন্দ্রীয় আইনসভাই সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।
৬. প্রজাতন্ত্র: বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রপতি হবেন রাষ্ট্রপ্রধান। তাঁর নামে রাষ্ট্রের শাসন কাজ পরিচালিত
৭. সংবিধানের প্রাধান্য: সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানে 'অনুচ্ছেদ ৭'-এ বলা হয়েছে। সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও সালে অমতার মুঅিভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই যে, "প্রজাতন্ত্রের হবে। রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় সংসদের সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন।
৯. সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য সংবিধানের 'অনুচ্ছেদ ৭খ'-তে বলা হয়েছে লে"সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগে সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলি সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একান ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলি সংযোজন, পরিবর্ত প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে"।
১০. সংসদীয় গণতন্ত্র: বাংলাদেশ সংবিধানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধী মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসনকার্য পরিচালনার ভার অর্পণ করা হয়। জাতীয় সংসদ সমস্ত ক্ষমতার উৎস। মন্ত্রিসভার সদস্যগ একক এবং যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী। প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান প্রধানমন্ত্র পরামর্শমত কাজ করেন। ইত্যাদি।
পরিশেষে, সংবিধান বলতে কতোগুলো লিখিত বা অলিখিত মৌলিক বিধিমালাকে বোঝায় । যা কোন রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্ম্পক নির্ণয় করে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের ও বণ্টনের নীতি নির্ধারণ করে । আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য সংবিধান এক অপরিহার্য দলিল ।