উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়াবলি অর্থাৎ মৌলিক অধিকার বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে লিপিবদ্ধ আছে।
কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সংবিধান স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাই হলো মৌলিক অধিকার। সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৭ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ করা হয়েছে। এসব মৌলিক অধিকারের অন্যতম হলো আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী প্রভৃতি কারণে বৈষম্যহীনতা, সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা প্রভৃতি।
সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ তাদের শাসনতন্ত্রে সন্নিবেশিত থাকে। মূলত গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তিমূল হলো মৌলিক অধিকার। তাই বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার পূরণের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য মৌলিক অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জীবনধারণ এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার না থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব নয়। আবার শিক্ষার অধিকার না থাকলে নাগরিকদের মেধা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়। চিকিৎসার অধিকার না থাকলে সুষ্ঠু শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই মৌলিক অধিকার নাগরিক জীবনের জন্য অতীব জরুরি একটি বিষয়।