বাংলাদেশের সংবিধান উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির সংবিধানের চেয়ে উত্তম বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ সংবিধান হলো একটি উত্তম সংবিধান। বিশেষ গুণাবলীর সমন্বয়ে গঠিত এবং সাধারণ আইন ও সাংবিধানিক আইনের দ্বারা বেষ্টিত সংবিধানকে উত্তম সংবিধান বলে। উত্তম সংবিধান গণতান্ত্রিক গুণাবলীর সাথে সম্পৃক্ত। সম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উত্তম সংবিধানের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্পষ্টতা উত্তম সংবিধানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। সংবিধানের ধারা সমূহ সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে কারো পক্ষে বুঝতে অসুবিধা না হয়। সুতরাং সেই সংবিধানে উত্তম বলে বিবেচিত হবে যে সংবিধানের ভাষা ও শব্দ হবে প্রাঞ্জল ও অর্থপূর্ণ। এছাড়া সংক্ষিপ্ততা, স্থায়িত্ব, ব্যাপকতা, সার্বভৌম ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, মৌলিক অধিকার সমূহের অন্তর্ভুক্তি, সময়োপযোগী, লিখিত সংবিধান, জাতীয় আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, উত্তম সংশোধন পদ্ধতি, জনমতের অগ্রাধিকার, বিচারবিভাগের প্রাধান্য, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, আইনের শাসন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা, জনমতের প্রতিফলন প্রভৃতি উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য। একটি সংবিধানকে উত্তম সংবিধান বলতে গেলে উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্য গুলো থাকা আবশ্যক। আর বাংলাদেশ সংবিধান এসব বৈশিষ্ট্যের সমুজ্জ্বল। এ কারণে আমি মনে করি উদ্দীপকে রাষ্ট্রটির সংবিধানের তুলনায় বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম।