উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান অর্থাৎ বাংলাদেশ সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোকে যথার্থই সত্য বলে বিবেচিত হয়।
সংবিধান হলো রাষ্ট্রের দর্পণ। সংবিধানে একটি রাষ্ট্রের পরিচালনা পদ্ধতি তথা একটি জাতি সমগ্র জীবন পদ্ধতি প্রতিফলিত হয়। সংবিধান রাষ্ট্রের অখন্ডতা রক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। এ কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল বলেছেন, "The Constitution is the way of life,the state has Chosen for itsel। " অর্থাৎ সংবিধান হচ্ছে একটি জীবন ব্যবস্থা, যার রাষ্ট্র তার নিজের জন্য নিজেই পছন্দ করেছে। ' ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ওয়াড়া মাধ্যমে বিষের মানচিত্র স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই প্রয়োজন হয় রাষ্ট্রীয় সংবিধান রচনার। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং তার পরদিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাস তখনই শুরু হয়। অবশেষে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবস উপলক্ষে সংবিধান কার্যকর করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানেও রয়েছে অনন্য সব বৈশিষ্ট্য। এজন্য এটি বিশেষ শ্রেষ্ঠ সংবিধান গুলোর মধ্যে অন্যতম। কেননা, যে মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংযোজন করা হয়। তাই আমি মনে করি প্রশ্নোত্তর উক্তিটি সঠিক।