উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশ সংবিধানে নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য বিষয়াগুলির গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশ সংবিধানের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা নিশ্চয়তা প্রদান করার হয়েছে। সংবিধানের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংবলিত একটি নীতি দীর্ঘ তালিকা সংযোজিত হয়েছে। যেমন -বাকস্বাধীনতা, স্বাধীন চিন্তার অধিকার, সাম্যের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার, সভা সমিতির অধিকার ও ধর্মচরণের অধিকার ইত্যাদি। নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের এবং নাগরিকের জীবনে পূর্ণতা আনয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে এই অধিকারগুলো সংবিধানে বিবৃত হয়েছে। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে প্রয়োজন ছাড়া সংবিধান প্রদত্ত অধিকার সমূহ বলবৎ করার এবং অধিকার ভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিকারের ব্যবস্থা ও সংবিধান আছে। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে জানা যায়, কোন আইন যদি জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হয় তবে হাইকোর্ট তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে জাতীয় সংসদ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী কোন আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। মৌলিক অধিকার খর্ব করে এমন আইন জারি হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংবিধানে ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোন ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারে। সর্বোপরি উক্ত আইন কে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল ঘোষণা করতে পারে। স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, বাংলাদেশের জনগণের উল্লেখযোগ্য সংরক্ষণে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের হাতে রয়েছে। তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় মৌলিক অধিকার নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য একান্ত অপরিহার্য বলে পরিগণিত হয়।