উদ্দীপকে উল্লিখিত মূলনীতি অর্থাৎ সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধানে আরো দুটি মূলনীতি রয়েছে। যথা- জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র। নিচে এ দুটি মূলনীতির ব্যাখ্যা করা হলো -
জাতীয়তাবাদ : ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলস্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয়তাবাদ। অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও মানসিকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রাণধারা। এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তা বিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম অর্জন করেছে ;বাঙালির জাতির সেই ঐক্য ও সংহতিই হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে স্বতন্ত্র। আর জাতি হিসেবে নিজের দেশের জনগণের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। এই জাতীয়তাবাদ এটাই প্রমাণ করে আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। আর আমরা একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র জাতি।
গণতন্ত্র: সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিগণিত হবে। এ প্রসঙ্গে সংবিধানে ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। " গণতন্ত্রের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাংলাদেশের সকল পর্যায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকলের কার্যকর অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা বিধানের ব্যবস্থা রাখা হয়।