উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটির সংবিধানের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার দর্পণস্বরূপ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভের মাত্র এক বছরের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মূল দলিল হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রণীত এ সংবিধানটি রচনার ক্ষেত্রে বাঙালিকে অনেক মেধা, পরিশ্রম এবং সময় দিতে হয়েছে। তাই এর সংবিধানটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য মহিমান্বিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর লিপিবদ্ধ দলিলে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সমূহ উল্লেখ রয়েছে। দলিলটি সংশোধন করতে হলে সংসদ সদস্যের দুই তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয় । এসব তথ্যগুলো ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ । কেননা বাংলাদেশ সংবিধানটিও একটি লিখিত দলিল। এ সংবিধানে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ, ১১ টি ভাগ,, ১ টি প্রস্তাবনা ও ৪ টি তফসিল রয়েছে । এ সংবিধানটি দুষ্পরিবর্তনীয়। সংবিধানের কোনো বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়। এ সংবিধানেও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। উদ্দীপকের রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এ মূলনীতিগুলো হল জাতীয়তাবাদ , সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এসব মূলনীতির উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সুতরাং উপরীউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লেখিত রাষ্ট্রটির সংবিধানের সাথে আমার প্রতি তো বাংলাদেশ সংবিধানের মিল রয়েছে।