উদ্দীপকে যেসব ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে তার অভিন্নতার বিচারে উক্ত মিশনটি ক্রিপস মিশন হিসেবে সুনির্দিষ্ট হয়। ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক ক্রমবর্ধমানের ইতিহাসে ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবসমূহ কতগুলো ক্ষেত্রে অগ্রগতির পরিচয় বহন করলেও স্বাধীনতা কে আমি ভারতবর্ষের জনগণ এ প্রস্তাবটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের প্রত্যাখ্যানের ফলে এ প্রস্তাব ব্যর্থ হয়। ক্রিপসের দ্বিমুখী নীতি তার প্রস্তাবের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। ঐতিহাসিকদের মতে, ক্রিপস তার ক্ষমতার চেয়ে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন যার অনেকটাই ছিল ছলচাতুরি। ক্রিপস মিশনের প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এ প্রস্তাবটি অখন্ড ভারত গঠনে পরিপন্থী এবং জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ছিল। যুক্তরাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতে ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হলেও দেশ রক্ষা বিভাগ ভারতীয়দের হাতে অর্পণ করা হয়নি। ফলে এ প্রস্তাব জনমনে প্রহসন মূলক ধারণা সৃষ্টি করে। তাছাড়া এ প্রস্তাবটি অনিশ্চয়তার দোষে দুষ্ট। এতে কোনো সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না থাকায় এটি কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়ে। আবার এ প্রস্তাবে সুক্ষভাবে আত্মনির্ভরশীল সরকারের গর্ভনর জেনারেল এর ক্ষমতাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচ্ছন্ন করে রাখা হয়। এতে প্রস্তাবিত গণপরিষদের গঠন প্রকৃতি ও ছিল অগণতান্ত্রিক। আর এসব সীমাবদ্ধতা, অস্পষ্টতা, স্বার্থবোধকতা প্রভৃতি কারণেই উক্ত মিশনের প্রস্তাবসমূহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।