উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাব অর্থাৎ মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ কংগ্রেস-মুসলিম লীগের মতপার্থক্য। ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা গৃহীত না হওয়ার কারণগুলো হল-
প্রথমত, মূল পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ কেউই একমত হতে পারেনি। উভয় রাজনৈতিক দলই নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে ভেবে এ পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে।
দ্বিতীয়ত, ১৯৪৬ সালের ২৯ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থগিত রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। এই সরকারে কংগ্রেস যোগদান করলেও মুসলিম লীগ যোগদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। ফলে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
তৃতীয়ত, ১৯৪৬ সালের ২৪ আগস্ট কংগ্রেস জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে ১২ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে। অপরদিকে সেই দিনটিকে মুসলিম লীগ কালো দিবস হিসেবে পালন করে। ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে গোলযোগ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপলাভ করে।
চতুর্থ, পরবর্তীতে মুসলিম লীগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগদান করলেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে সে সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
পঞ্চমত, মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় দেশীয় রাজ্যগুলোতে সামন্ততন্ত্রকে স্বীকৃতি দেয়া হয় । যা গণতন্ত্রের প্রতি আঘাতস্বরুপ ছিল।
ষষ্ঠত, ভারতের রাজনৈতিক জটিলতা এড়ানোর জন্য যেখানে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার দরকার সেখানে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের চেষ্টা করা হয়।
সপ্তমত, এ পরিকল্পনায় ভারতকে দু'টি মুসলিম প্রধান অঞ্চল, একটি হিন্দুপ্রধান অঞ্চল ও একটি দেশীয় রাজ্যসমূহ নিয়ে গঠিত অঞ্চলে বিভক্ত করার কথা বলা হয়। যা ছিল মূলত অবাস্তব ও জটিল প্রক্রিয়া।
এভাবে কংগ্রেস-মুসলিম লীগের অসহযোগিতা এবং বিভিন্ন ত্রুটি থাকার কারণে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।