উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ ঘটনার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা- এ বক্তব্যটি যথার্থ।১৯০৫ সালের বঙ্াভজোর পেছনে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ থাকলেও এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক তথা ভারতবাসীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা। ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের ফলে ভারতীয়রা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটে। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নামক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সমগ্র ভারতে বিশেষ করে বাংলা প্রেসিডেন্সিতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ১৯০০ সালে ঢাকায় 'যুগান্তকারী' এবং ১৯০১ সালে কলকাতায় 'অনুশীলন' নামে দুটি অতি বিপ্লবী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতা। এসব আন্দোলনে ভীত হয়ে ব্রিটিশ শাসকগণ তাদের চিরায়ত শাসন কৌশল 'ভাগ কর এবং শাসন কর নীতি' (Divide & Rule Policy) প্রয়োগ করে। বাংলা তথা বঙ্গপ্রদেশকে বিভক্ত করে ব্রিটিশরা এ দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করে তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল গ্রহণ করে। এছাড়া ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহও বঙ্গভঙ্গের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবে। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ বাংলার হিন্দু জনগণ বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি করে। কেননা কলকাতা শহরের লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদগণ পূর্ববাংলার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বঙ্গভঙ্গের ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এভাবেই বঙ্গভঙ্গের দ্বারা ব্রিটিশ শাসকগণ কৌশলে কলকাতাকেন্দ্রিক সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করার সুযোগ লাভ করে।পরিশেষে বলা যায় যে, বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশরা ভাগ কর ও শাসন কর কৌশল সার্থকভাবে প্রয়োগ করে পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের পশ্চিম বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের থেকে আলাদা করে দুটি বৃহৎ সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। এতে ব্রিটিশদের ভারত শাসন সহজ হয়।