ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পরিণতি ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সাধারণত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঙ্গরাজ্যগুলো পাকিস্তানের এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঙ্গরাজ্যগুলো ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে করে দুটি রাষ্ট্র নানান সমস্যার সম্মুদীন হয়। পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে একটি পূর্ব পাকিস্তান, অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তান নামে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বারা নানাভাবে বিশেষ করে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিগৃহীত ও শোষিত হতে থাকে।১৯৪০ সালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের ভিভিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর মূল প্রস্তাবই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই মুসলিম লীগ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং ব্যাপক সামরিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। এভাবে লাহোর প্রস্তাবকে এড়িয়ে যাওয়া এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলের। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার জন্য স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ব্যবস্থা না করায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা বস্তুত সমস্যা সৃষ্টি করেছে, সমাধান দিতে পারেনি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তার উজ্জ্বল প্রমাণ। ১৯৪৭ সালের ভারতবর্ষের স্বাধীনতা বিনা রক্তপাতে সম্ভব হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। যদিও পাকিস্তান সৃষ্টির সময়ই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন স্বীকৃতি ছিল, তথাপি অনেকেই মনে করেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা তথা পাকিস্তানের অভ্যুদয়ের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত। পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পরিণতিই হলো আজকের বাংলাদেশ। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতি তাদের স্বাধীনতা লাভ করে।