উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ অর্থাৎ বক্তাভঙ্গ 'ক' অঞ্চলের তথা পূর্ব বাংলার জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।উদ্দীপকের বিশাল অঞ্চলের বিভক্তিকরণ ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভঙ্গকেনির্দেশ করে। আর 'ক' অঞ্চল দিয়ে পূর্ব বাংলাকে বোঝানো হয়েছে। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার জনজীবনে যে প্রভাব পড়েছিল উদ্দীপকের ' অঞ্চলের জনগণের জীবনেও একই ধরনের প্রভাব পড়বে। ক 'পূর্ব বাংলার জনগণের নিকট বঙ্গভঙ্গ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। এর ফলে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের মুসলিম সমাজের রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নতুন প্রদেশের প্রশাসনের প্রতিটি শাখায় নতুন প্রাণশক্তি ও উদ্দীপনা দেখা যায়। বাংলা প্রদেশ বিভক্ত হওয়ার ফলে ঢাকা পূর্ববঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। বঙ্গভঙ্গের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় নতুন নতুন সুরম্য অট্রালিকা, হাইকোর্ট, সেক্রেটেরিয়েট, আইন পরিষদ ভবন, কার্জন হল প্রভৃতি নির্মিত হতে থাকে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মুসলমানদের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও অগ্রগতি অর্জিত হয়। এছাড়া ঢাকা নগরের পুনর্জন্ম ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। পূর্ব বাংলায় রেলরাইনসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়। লর্ড কার্জন স্বয়ং আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রদেশ উন্নত কৃষ্টি ও ঐতিহ্য বলে বলীয়ান হয়ে পূর্ববঙ্গ শাসনব্যবস্থায় যোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববজোর জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণও 'ক' অঞ্চলের জনজীবনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।