উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে।উদ্দীপকে উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্রমাগত শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১৬। বছর পর দ্বিতীয় আইন প্রণীত হয়। প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় আইনটি অপেক্ষাকৃত উত্তম হলেও শেষ পর্যন্ত এ আইনটির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় আইনটির সাথে আমার পঠিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক আইন, যা ভারতের শাসনব্যবস্থায় কিছু সংস্কার আনে। এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ে শাসন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হলেও বাস্তবে ব্রিটিশ কর্তৃত্বই বজায় থাকে। তবুও এটি ভারতের স্বাধীনতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ. আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং শাসনবিষয়ক ক্ষমতা কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও যুগ্ম তালিকায় বিভক্ত করা হয়। এ আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলেও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত গঠন, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আইনসভা ও মুসলমানদের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ ছিল এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রাদেশিক পর্যায়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, গভর্নরের পদ সৃষ্টি, নতুন প্রদেশ প্রতিষ্ঠা ও রাজপ্রতিনিধির পদ চালু করা হয়। উপদেষ্টা সংস্থা গঠন এবং প্রাদেশিক সরকারের দায়বদ্ধতার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও এই আইন কাগজে-কলমে ভারতীয়দের দাবির প্রতিফলন ঘটায়, কার্যক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসনই প্রাধান্য পায় এবং তা শেষপর্যন্ত কার্যকারিতার প্রশ্নে সমালোচিত হয়।