উদ্দীপকে বর্ণিত আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। এই আইনের সাথে রাষ্ট্রটির গভর্নর জেনারেল প্রদত্ত পরিকল্পনা তথা ৩ জুন পরিকল্পনার সম্পর্ক রয়েছে।১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতবর্ষের জটিল রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন যা ৩ জুন পরিকল্পনা নামে পরিচিত। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতকে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাসকৃত আইন বাস্তবায়নে সহায়ক হয়।উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল এবং স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চলছিল। শেষ গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্ত নেন ও ৩ জুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনা কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয় এবং ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদন পায়। পরিকল্পনার ভিত্তিতে ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপিত হয়, যাতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব ছিল। অবশেষে ১৮ জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন' পাস হয়, যা প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটায়। অর্থাৎ, মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাই ছিল আইনটির কাঠামো নির্ধারণের মূলভিত্তি, যা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নেয়। পরিকল্পনা ছাড়া আইনটির কার্যকরী রূপ দেওয়া সম্ভব হতো না এবং আইন ছাড়া পরিকল্পনাটি কার্যকর হতো না- এ দুটি একে অপরের পরিপূরক ছিল।আলোচনা পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ৩ জুনের মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ও 'ভারত স্বাধীনতা আইন' ছিল একই উদ্দেশ্য পূরণের দুটি ধাপ, যা একসঙ্গে ভারতবর্ষে স্বাধীনতা ও নতুন রাষ্ট্রের জন্ম নিশ্চিত করেছে।